কেন লিখি? রামু ফ্যাক্টর

Uncategorized

কেন লিখি? রামু ফ্যাক্টর
…………………………………………………

রামু বৌদ্ধ মন্দিরে বৌদ্ধ মন্দিরের সেবকের সাথে জোর করে মতবাদ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টার  ভিডিওটি দেখলাম। একইরকম ভিডিও দেখেছি কিছুদিন আগে একটি হিন্দু মন্দিরের পুরোহিতের সাথে। পার্কে বান্ধবীদের সাথে বেড়াতে যাওয়া একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাত্রীর সাথেও।

আমার এক সম্মানিত বন্ধু কিছুদিন আগে আমাকে বলেছিলেন , একজন অবিশ্বাসী অজ্ঞেয়বাদী হয়েও কেন এসব ব্যাপার নিয়ে লিখি আমি ? অন্য কেউ হলে দিতামনা উত্তর্। কিন্তু আমার খুব বেশী সম্মানিত একজন বন্ধুর এই প্রশ্নটির উত্তর আমার দেয়া প্রয়োজন বলে ভেবেই এই লেখাটি।

আমি সেই কারণেই লিখি ব্রাদার , যেকারণে অন্যের অধিকারের উপরে সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে এভাবে হস্তক্ষেপ করা হয়। আইনের পোশাক যেদিন গায়ে পড়েছিলাম , সেদিন সকল আইনজীবীর মতোই আমিও শপথবাক্য পাঠ করেছিলাম ন্যায়বিচারের পক্ষে থাকবো চিরকাল। যদিও সেই শপথ রক্ষা করতে পারিনা আমরা বেশিরভাগই। তবু যতটুকু পারি চেস্টা করতে দোষ কি?

আর আমি লিখি কারণ আমাদের হাজার হাজার লাইক শেয়ার কমেন্ট পাওয়া সুপার সেলেব্রেটিরা লেখেননা এসব নিয়ে। আমাদের লেখা কজনেই বা পড়ে? অথচ উনারা যদি লিখতেন , দাবানলের মতো গড়ে উঠতো প্রতিরোধের জনমত। অবসান হতো এসবের্। কিন্তু উনারা তা করবেননা। কারণ একটাই। পাছে যদি আবার ফলোয়ার আর লাইক কমে যায়। যেকারণে উনারা ফুটবলে আবাহনী না মোহামেডান সাপোর্ট করেন , তাও বলেননা প্রকাশ্যে। লাইক এমনই এক মূল্যবান বস্তু বটে।

আমি লিখি কারন আমেরিকার রেড ইণ্ডিয়ান বা হিন্দুকুশের পাদদেশের কালাশদের মতো কোনো ইতিহাস যেন রচিত নাহয় এই বাংলার কোমল মাটিতেও। যে মাটিকে মা বলে বিবেচনা করি , তারই কোনো সন্তান যেন রেড ইণ্ডিয়ান বা কালাশদের মতো পরিণত নাহয় এথনিক ক্লিনজিং এর মর্মান্তিক শিকারে।

বারবার চিন্তা করি , আর লিখবোনা এসব নিয়ে। কি দরকার খালি খালি শত্রু বাড়ানোর? এসব লিখি বলেইতো আমার ১৫ হাজার ফলোয়ারের ১২ বছরের পুরনো আইডিটা উড়িয়ে দিলো। তার চেয়ে বরং নিজের পেশা আর ব্যবসা নিয়েই নাহয় মগ্ন থাকি। আকাশে ঝড় উঠলে উটপাখির মতো মরুর বালুকায় মুখ বুজে থাকি, আর ভাবি এভাবেই ঝড় কেটে যাবে একদিন।

কিন্তু অন্ধ হলেই কি প্রলয় বন্ধ হয়? ঝড় কি আসলেই কেটে যায় চুপিচুপি? নাকি ঝড় শেষে দেখা যায় মরুর বুকে ছড়িয়ে আছে অগণিত উটপাখির মৃতদেহ।

আমি ভালো করেই জানি , কয়েকজন এর লেখা আর প্রতিবাদে কিছুই হবেনা। পেছল পথের যে মানসিক যাত্রা শুরু হয়েছে , সেই ঝড় থামানোর সাধ্য হাতেগোণা কিছু মানুষের নেই। তবু লিখি আমরা কেন জানেন?

যাতে একদিন ভয়াবহ ভবিষ্যতে বসবাস করে পেছন ফিরিয়ে তাকিয়ে এইটুকু শান্তনা যেন পাই , কিছু অপদার্থ মানুষ অন্তত অরণ্যে রোদন জেনেও করেছিলাম প্রতিবাদ আর ভবিষ্যৎবাণী। আজ অনেকেই অনেক ধরণের ট্যাগ দেন আমাদের্। কেউ বিদ্বেষী , কেউ সাম্প্রদায়িক , কেউ চালবাজ , কেউ ধান্ধাবাজ ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। সবই জানি , সবই বুঝি। কিন্তু নেই কোন আপসোস।

কারণ ইতিহাস একদিন স্বাক্ষী দেবে যে , আমরা মিথ্যা ভবিষ্যৎবাণী করিনি।

আজকে যারা আমাদের অপছন্দ করেন মনে মনে , নানারকম ট্যাগ দেন কখনো প্রকাশ্যে , কখনো গোপণে , ভবিষ্যৎ এর ভয়াবহতাতে বসবাস করে একদিন সেই সম্মানিতরাই আমাদের স্মরণ করবেন প্রাণভরে।

আপসোস শুধু এই যে , “বড় বেশী দেরী হয়ে যাবে সেইদিন”

“দূর আকাশে ঝড় উঠেছে , ঘনিয়ে এসেছে রাতি”

(সবিনয় নিবেদন )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *