দুষ্টু এবং মিষ্টিরা

গল্প নারী প্রেম সাহিত্য
দুষ্টু এবং মিষ্টিরা 🙈
-ঘরের আরেক সেট চাবি খুঁজে পাচ্ছিনা,দেখেছো?
আরেকটা চাবিতো এখানে থাকার কথা!-অফিস থেকে ফিরে চাবিঘরে চাবি রাখতে রাখতে বলে সৌমিত্র।
-বলতে পারছিনা।চাবি নিলে তো,এখানেই এনে রাখি।মোবাইলটা সরিয়ে রেখে উঠে দাঁড়ায় দীপিকা।
খুঁজে দেখার অভ্যাস ওর নেই বললেই চলে।তবু চাবির সেট খুঁজে নাপাওয়া টা ভালো কথা নয়।বুক ধুকপুক করছে রীতিমতো।এক্সট্রা চাবির সেট কোন কু-হাতে পড়লে বিপদ হবে।
-বাবার বাসায় যাবার সময় শেষবার চাবি নিয়েছিলে সম্ভবত।ওখানে ফেলে আসো নি তো?
-সেদিন তো এনে রেখেছি চাবিঘরে,আশেপাশেই কোথাও আছে।পেয়ে যাবো।দীপিকা জানে, এসব বলে নিজেকেই নিজে সান্ত্বনা দিচ্ছে সে।
-আচ্ছা,যাক,পাওয়া যাবে।বাবার বাসা থেকে চাবি নিশ্চয়ই এনেছো,নইলে দরজা খুলে ঘরে ঢুকতেই পারতে না।
সৌমিত্র ও “অল ইজ ওয়েল” মুডে বলে যায়।
চাবির চিন্তা সরিয়ে রেখে ওরা দুজন সংসার করছে।ফাঁকে ফাঁকে এখানে ওখানে চাবি খুঁজে বেড়াচ্ছে।খুঁজে নাপেয়ে একজন আরেকজন কে সান্ত্বনা দিচ্ছে এভাবেই চলছে।
দুদিন পর,গেস্ট রুমের সকেট বোর্ডে চাবি ঝুলতে দেখা যায়।কে দেখেছে, সেটা আর না ই বা বললাম।কেই বা রাখল,তা জানার ও প্রয়োজন নেই।তবে যে কেউ একজন দরজার কিহোল এর বদলে সকেটে ঢুকিয়ে রেখেছে,এটা তো নিশ্চিত।
এদিকে,সেদিন ফিল্টারের জলে কেন গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে,সেটা নিয়ে ঘরে তোলপাড়!জল খাওয়াই যাচ্ছেনা।বারবার ফিল্টারের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছে সৌমিত্র।এমন গন্ধ কেন করছে,এতো ভাল ফিল্টার থেকে?
-এই শুনছো,জলে গন্ধ পাচ্ছো?
কপালে ভাঁজ পড়েছে দীপিকার।এইমাত্র ডিউটি থেকে ফিরেছে।দীর্ঘক্ষণ জল খাওয়া হয়নি।জল খেতে গিয়ে এমন বিপত্তি।জলে পচা সবজির গন্ধ!কী বিদঘুটে!
যাহোক জল ফুটিয়ে আপাতত খাবার জলের ব্যবস্থা করা গেল।খানিক গবেষণার পর সৌমিত্র নিজের মনেই বিড়বিড় করছে,
-জলে বাধাকপির গন্ধ কেন পাওয়া যাবে!
প্রমাদ গুনছে দীপিকা।
-এই সেরেছে!গতকাল বাঁধাকপি সেদ্ধ করে জল ঢেলে দিয়েছি ফিল্টারে।এতো পুষ্টিযুক্ত জল ফেলতে ও ইচ্ছে করছিল না,তাই…
এমন বোকা বোকা কাজ করে মুখের অভিব্যক্তি কেমন হওয়া উচিত,সেটা নিয়ে খানিক দ্বিধাগ্রস্থ দীপিকা।
এরপর দুদিন ধরে ফিল্টার নিয়ে যুদ্ধ চললো।ফিল্টার থেকে বাঁধাকপির গন্ধ সারাতে গিয়ে ব্যস্ত সময় কাটলো।লবঙ্গ, দারুচিনি,এলাচ,লেবু সবকিছু দিয়ে গন্ধ সারানোর চেষ্টা চললো।তবে সব চেষ্টা বিফল হবার পর,ফিল্টার পালটে তবে শান্তি।
এভাবেই,একে অপরের ভুল-ত্রুটি সামাল দিতে দিতেই ওদের সম্মুখ যাত্রা।বিয়ের সময় এক লোকাচার আছে,বউ কড়ির বাক্সের ঢাকনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়,বর গুছিয়ে ঢেকে রাখে।তখন বউদিরা বলাবলি করছিলেন,
আমাদের ননদ কোন ভুল করলে,নন্দাই যেন ঢেকেঢুকে সামলে নেয়।
বিয়ের প্রতিটা লোকাচার এবং নিয়মের মধ্যে বিয়ে পরবর্তী জীবনে নির্বিবাদে চলার নানা রহস্য লুকিয়ে আছে।কিন্তু রহস্য আমাদের বোধগম্য হয়না।চলতে চলতেই আমরা শিখি,ভুল করি আবার শুধরে নেই।এভাবেই চলতে থাকে বিবাহ নামক বন্ধুত্ব।

বিবাহের পঞ্চম পাকে আমরা একে অপরের বন্ধু হবার  প্রতিজ্ঞা করি।দুজনে দুজনকে ভালবাসা ও সম্মান প্রদানের অঙ্গিকার করি।কেউ কাউকে দাবিয়ে না রেখে, দোষ-গুণ নির্বিশেষে মানুষটাকে আপন করার প্রতিজ্ঞা করি।কিন্তু সেই প্রতিজ্ঞা রাখতে পারি কজনে?
©দীপিকা চক্রবর্ত্তী
(এটা খানিকটা আমাদের গল্প।সত্যের সাথে কিছু কল্পনা না মিশালে সাহিত্য হয়না,তাই কিছু কল্পনাও আছে এতে।নাম সেইম রেখেছি।ছবিটা আমাদের বিয়ের।২০০৭ এর শেষে আমাদের গল্প শুরু হয়েছিল,২০১৪ তে সেই গল্প আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় এভাবেই!)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *