দেখুন জাতীয় মহিলা সংস্থার সেক্রেটারি অলোকা ঘোষ দিদির লেখাটা। একজন নারী হয়ে তিনি কি চায়?

Uncategorized
দেখুন জাতীয় মহিলা সংস্থার সেক্রেটারি অলোকা ঘোষ দিদির লেখাটা।
একজন নারী হয়ে তিনি কি চায়?
যতটুকু কর্তব্য ততটুকু অধিকারের পক্ষে সোচ্চার আমি 
( শুধু পিতার নয় বিবাহোত্তর স্বামীর সম্পদের অংশের 
পুরুষের প্রভুত্ব বনাম দেবত্ব , হিন্দু নারীর আইনগত অধিকার , দেউলিয়া নারী , নারীর প্রতি বৈষম্য অপনোদন সংক্রান্ত  ইত্যাদি শিরোনামে এবং নারীর অধিকার বিষয়ক আমার লেখা দৈনিক পত্রিকায় ছাপাp হয়েছে ।  আমি নারী , আমি কন্যা , আমি বধূ , আমি মাতা এবং আমি মানুষ । আমি আমার অধিকারের পক্ষে । অস্তিত্বের জন্য আমার ঠিকানা আবশ্যক ।  এ জন্য কত মিছিল করলাম  , গলা ফাটিয়ে হাত উঁচিয়ে শ্লোগান দিলাম রাজপথে  । 
সকল নারীর জন্য সমান অধিকার । আমাদের সংবিধানে যেমন বলা আছে সব নাগরিকের সমান অধিকার , কোন বৈষম্য থাকবে না ,আমি সেটাই চাই । 
পিতার সম্পত্তিতে সমান অধিকারের প্রশ্নে  কন্যা হয়ে যতটুকু দায়িত্ব পালন করতে পারি তার বেশী দাবী করা কি শোভা পায় ? বিবাহ পরবর্তী স্বামীর অর্জিত সম্পত্তিতে সমান অধিকার চাই । রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার আমার প্রাপ্য । আমি কাজ করি ভাত খাই । দুই টাকার শাড়ি এক টাকার স্নো পাউডারে কোন প্রয়োজন মনে করি না  ।  ( সিভিক্স  বলে অধিকার এবং কর্তব্য পরস্পর সম্পর্কিত । অবশ্যই অধিকার পেতে হলে কর্তব্য পালন  করে পেতে হবে  । )
কয়েক ঘন্টা আগে ৫.৯.২১ তারিখে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ  হিন্দু নারীর অধিকার বিষয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানকল্পে একটি সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে  জেনে আমার অধিকার প্রাপ্তিতে আশান্বিত হয়েছি । 
——
যে স্টিয়ারিং কমিটি  গঠন করা হয়েছে এটা কি বাংলাদেশের হিন্দুদের সর্বোচ্চ ফোরাম ?  
———-
সর্বোচ্চ  ফোরাম হলে তো কথা নেই , নানা বর্ণের নানা সম্প্রদায়ের নানা স্তরের বিজ্ঞ বিশারদ প্রতিনিধি না থাকলে  সর্বোচ্চ সমর্থন হবে ? আমরা আর মামারা সব হয় কি না জানি না । আমার মাথা ব্যথা  কেন ? 
আমি আদার ব্যাপারীও না , জাহাজের খবরে দরকার কী ?  কে কখন আবার কোথায় নাম টাম কেটে দেয় , দিলে দেবেন  কী আর করা ! নাম কাটার ক্ষমতা থাকলে আয় রোজগার বেশী হয় বুঝি ।  
মনে তো পড়ে , প্যারী লাল চক্রবর্তী স্যার আমাকে মা কালী ঘোষ বলতেন , আমার স্বভাব কারো পেটে হজম হতে পারি না তাই । 
এটাও ঠিক আমার অধিকারের প্রশ্নে  কিন্তু আর একা নই আজ । আমার সাথে  সম্পর্কিত আমার অন্যান্য সহোদর সহোদরা , ভাতিজা ভাতিজী একটা বাহিনী , বোনের ছেলে মেয়েরা এক বাহিনী , জ্ঞাতি ভ্রাতা ভগিনী এক বিশাল বাহিনী  , আমার বিধবা মা , আমার স্বামী দেবতা , পুত্র কন্যাগণও  আছে । শ্যাম রাখি না কূল রাখি তাই চুপ করে ছিলাম । 
আমি বা আমার মতন  বাবার কন্যারা  যারা পিতৃ সম্পত্তিতে যেমন অধিকার চাই ঠিক  তেমন ভাবে ( কন্যা -ভগিনী -মা জননী ) আমরা যেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে বাবা ভাই স্বামীর বিনাশ সাধন না করি -সাথে সকল পক্ষের জন্য আইনের সুরক্ষা ব্যবস্থা  থাকতে হবে  । 
ভাগ আদায় করে  বিক্রী করে যদি  কেউ সমুদ্রে ডুবে যায় , লঙ্কা পারি দেয় বা বৌদিমনিকে দেখিয়ে দেবার জন্য মনে মনে বলে , দুদিন যাক তার পরে দেখিস মজা , আমি তো খেতে পারলাম না  তোর ভিটেয় ঘুঘু চরাবো । 
এ সব ই ঘটতে ঘটতে ঘটতে আমরা হিরো থেকে জিরো । চল্লিশ থেকে দশ ।
কথা কিন্তু আরও আছে ! দরিদ্র পিতার কন্যার বিবাহে পাত্রপক্ষ আগ্রহী হবে ? যৌতুকবিহীন বিবাহে পাত্রপক্ষের বদান্যতা কি থাকবে ? বলছি , তার আগে – নিজের টা পকেটে যাক – হা হা হা সত্যি করে কি এ সব বলছি ? 
কবে থেকে যে নারী অধিকার আইন বাস্তবায়ন হয় , কবে থেকে যে বাবার সম্পত্তির ভাগ মেয়েরা পাবে ! আমি ভাবছি সে সব  কথা ! আচ্ছা যে বাবার সম্পদ নেই , যে বাবার নিজের বাঁচার মতো শক্তি নেই , বাবা মা কি মেয়ের শশুর বাড়ি গিয়ে থাকবে ? থাকতে পারবে ? 
আমার বাবা পরপারে পৌঁছেছেন বছর বিশ আগে , আমার মা জানেন না তিনি তাঁর স্বামীর সম্পদের একটু খানি মালিক । মা আমার এ সব বিষয়ে ধার ধারেন না ।মৃত্যুর আগে  বাবা নিজের শ্রাদ্ধ শান্তির টাকা আলাদা করে রেখে গেছেন , মায়ের জন্যও রেখে গেছেন । 
ভাগাভাগিতে কী ফল কী পরিনতি  হবে সেই চিন্তা করছি  ! প্রথম মুখ কালাকালি তারপর অংশ ভগ্নাংশ পয়েন্ট জিরো জিরো ফাইভ । হা হা মামলা মোকদ্দমা দলাদলি দেশান্তর গোপন দলিল গোপন বেচা কেনা ভিটে ছাড়া কত কিছু ঘটবে ! 
আচ্ছা যাকগে সে সব । এখন গাছ গাছালী পুকুর মাঠ ঘাট যে টুকু পাই সে টুকুই তো লাভ ! 
কিন্তু এই যে রাক্ষস -খোক্কস , সাপ -ব্যাঙ , বাঘ -কুমীর , ইঁদুর -ছুচো ও সব তো আছে ! আমি বাবার রেখে যাওয়া কিছু তো যত্ন করে রক্ষা করিনি । রোজ মাকে দেখাশুনা করি না , পুকুর পুন খননে টাকা দেই নাই , নতুন কোন গাছ লাগাই নাই , বাবার আত্মীয় স্বজনদের প্রতি কর্তব্য করি না , পূজা পার্বন, বাবার মৃত্যু বার্ষিকীতে কোন টাকা পয়সা খরচ করি না । এখন গিয়ে যদি ভাগের কথা বলি কেমন দেখায় ! আচ্ছা আইনে পেলে তো সমস্যা নেই । 
তবে কেমন করে  আনবো সেটাই ভাবনা , মাথায় করে নিয়ে আসব পর্বত একখান  ।ভাইদের যদি নগদ টাকা না থাকে তারা কিনবে বোনের অংশ ? 
কার কাছে বিক্রী করবে আমার মতন বোনেরা মেয়েরা  ?  সহজে পেয়ে গেলে লোভ নেই এমন সাধু কে আছে ? আচ্ছা ভাগে এক খান থাল , এক টব মাটি বিক্রী করে টাকা যদি না আনতে পারি স্বামী ছেলে মেয়ে কি ঘরে থাকতে দেবে ? অপর দিকে ভাই ভাস্তে ভাস্তী লাঠি কোদাল খুন্তি নিয়ে যদি বসে – ভগবান জানে কী ফ্যাসাদ যে বাধে । 
আবার ঘরের স্বামী মহাদেব বুড়ো শিবঠাকুর  গোপনে আহ্লাদে নাচছে কি না কে জানে ? যদি সে দৈনিক বলতে থাকে যাও যাও বিনা যৌতুকে বিবাহ করছিলাম মহত কাজ করছিলাম , এখন আইন হয়েছে সম্পত্তির ভাগ বিক্রী করে এনে দাও দিতে হবে । কী করা কী করা ! মরছি ! বাঘের হাত থেকে কুমীরের হাতে ? মরণ দশা না হয় ! 
না হবে না ! আমি যে নিজের যোগ্যতায় চাকরী করলাম সে টাকা কি বাবা ভাইদের দিয়েছি , না মনে করে দেখলাম দেই নাই । এই  স্বামীর বাড়ি মানে পরের বাড়ি – ঝি চাকরের কাজ করি , বাজার সরকারী করি , কাপড় সেলাই করলাম , ঘরবাড়ি বাসা ধুয়ে মুছে পাহারা দিয়ে রক্ষা করে রাখলাম , নিজের দেহ ক্ষয় করলাম , হাত জীর্ণ পুরাতন করলাম ! এখন আবার জন্মের ভিটে থেকে ভাগ করে বিক্রী করে এনে দেবো ? কার কাছে ? 
যাকগে ও সব দিয়ে কী হবে ! চাঁদে মঙ্গলে শুক্রে প্লট আছে ? বায়না দিতে সে টাকা কাজে লাগাবো ? কারো হাতে টাতে কিছু দিচ্ছি না । পায়ের নীচে মাটি তো হোক । নিজের নামে ফাউন্ডেশন করব হা হা হা । করব যদি কপালে থাকে ।
এই যে সংসারে থাকি ছেলেপুলে ছোট থাকতে দুজন লোক কাজ করেছে দিন রাত থেকেছে । এখন সব নিজে করি । করোনা কালে কাজের লোক বি দা য় । কোন খাতির নাই , আগে নেয়ার কথা ভাবি  নাই ভুল করেছি । আমি কারো গিন্নী টিন্নী মা টা ও সব কিছু বুঝি না । কয়েক মাস ধরে গৃহ কর্মীর জন্য নির্ধারিত ব্যয় ( বেতন ) আমি নিচ্ছি নিচ্ছি নেবো ।অনেক  কাজ অনেক খরচ করতে হয় । সে কি ইনিয়ে বিনিয়ে বলব দাও দাও ! হা হা হা —মেয়ে বলল মা হয়ে এটা কী বললে ? বললাম মা হয়ে কাজ নেই আমি কাজ করি বেতন  বিল হবে । আর কত ঠকা দেবো ? ছেলে মেয়েকে বলেছি আইন মতো ১০ ভাগ ফেলো তারপর কথা । মাগো মা কী যে করি ! 
এখন ভাবছি বাবা মা ভাইদের বাড়ি যে টুকু আদর যত্ন ছিল , না জানি এবার তারা কী করে বসে ! আবার পদ্মা সেতু হয়ে যাচ্ছে , ওহ কি চমৎকার ঢাকা টু মাওয়া হাই ওয়ে ! দিগন্ত বিস্তৃত  মাঠ , বিশাল নীল আকাশ , উড়াল সেতু কোলাহলহীন নির্জনতা ! অপার শান্তি যেন অন্য কোন গ্রহ অন্য কোন স্বপ্নের দেশ ! পদ্মা পার হয়ে ভাঙ্গা  এখন উইরোপ ছাড়িয়ে গেছে । দুই চোখ প্রাণ ঠান্ডা এক্কেবারে স্বর্গ , ফরফুরে বাতাস । মনে হয় উড়ে যাচ্ছি , মাথার খোঁপার  ক্লিপ খুলে বাতাসে উড়িয়ে দেই , ইস বাবার বাড়ি যাচ্ছি , গলা ছেড়ে গান ধরি ! পদ্মার ওপার জন্মভিটের জন্য সে কি টান ! আহা দেখার জন্য কত জন্মের  সাধ জেগে থাকে  ! 
ও মেয়েরা ওগো কন্যা অভিমানীরা শোন  ! যদি বাবার থাকে বিষয়টা বাবাকে বললে ভালো হয় না ? বাবার যদি না থাকে কী ভাগ হবে ? বাবা যদি না দেয় তা হলে মন খারাপ করে থাকাই ভালো । কত সমস্যা যে চারিদিকে ! শুধু কি বাইরে শত্রু ? কুরালে কাঠ কাটে সে কুরালের পিছনে কাঠের হাতল । মুক্তি পেতে হলে  খুব পড়ালেখা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে  হবে যে ।—-
অলোকা ঘোষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *