নারীবাদীদের সাথে নাস্তিকদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য খুব সামান্যই।

Uncategorized

নারীবাদীদের সাথে নাস্তিকদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য খুব সামান্যই।

নারীবাদীরা লিঙ্গবৈষম্যকে দেখেন কেবলই একটি সামাজিক সমস্যা রূপে, পক্ষান্তরে নাস্তিকরা দেখেন বিবর্তন-উদ্ভুত সামাজিক সমস্যা রূপে। দুদলই এটাকে সমস্যা মনে করছে, কিন্তু নাস্তিকরা মনে করছে কেবল সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করে এর সমাধান সম্ভব নয়, কারণ প্রজনন যেহেতু বিবর্তন তথা প্রাকৃতিক নির্বাচনের চাবিকাঠি, তাই প্রজনন-উদ্ভুত লিঙ্গভিত্তিক আচরণকে নির্মূল করা সম্ভব নয়।

নাস্তিকদের কাছেও লিঙ্গসাম্য কাম্য, তবে সেই লিঙ্গসাম্য কখনোই ৫০/৫০ হবে না, কারণ লিঙ্গভিত্তিক পছন্দ/অপছন্দের (preference) ব্যাপার রয়েছে। সেই পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে তবেই লিঙ্গসাম্যে পৌঁছাতে হবে। কোথাও সেটা ৬০/৪০ হবে, কোথাও ৪০/৬০, অথবা এরকম কিছু।

নারীবাদীরা বিবর্তনভিত্তিক লিঙ্গসাম্যকে ভয় পান। তারা মনে করেন কোনোকিছুকে প্রাকৃতিক দাবি করাই মানে সেটা অপরাধ হলেও তা জায়েজ করা। এখানেই তারা ভুল করেন বলে মনে করে নাস্তিকরা।

আমাদের একটা ব্যাপার বোঝা উচিত যে প্রাকৃতিক মানেই ভালো নয়, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার উল্টোটা। প্রকৃতি হলো মাৎস্যনায়ের জায়গা। এখানে জোর যার মুল্লুক তার। সুতরাং কোনোকিছু প্রাকৃতিক মানেই তা ভালো নয়। এটুকু নাস্তিকরা বোঝে। কিন্তু সেই প্রাকৃতিক অবস্থাকে স্বীকার করেই আমাদেরকে লিঙ্গসাম্যে পৌঁছাতে হবে, কারণ আমরা প্রকৃতির বাইরে নই।

মানুষ লক্ষ্য বছরের গোত্রভিত্তিক খুনোখুনি ৩০ শতাংশ থেকে ১ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে পেরেছে প্রকৃতির ওপর টেক্কা দিয়ে, আর লিঙ্গসাম্যে পৌঁছাতে পারবে না? মানুষের ওপর এতটা অবিশ্বাসী হওয়ার কারণ রয়েছে বলে নাস্তিকরা মনে করে না।

সন্ন্যাসী রতন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *