ভুল করে গোমাংস খেয়ে ফেললে কী করব?

Uncategorized
ভুল করে গোমাংস খেয়ে ফেললে কী করব?
একটি বহুল প্রচলিত প্রশ্ন সনাতনীদের বহু বছর ধরেই। ভুলে যদি কেউ গোমাংস খেয়ে ফেলে(রেস্টুরেন্টে বা যে কোনভাবে) তাহলে কী ধর্মনাশ হয়ে যাবে? এই প্রশ্নটির সবচেয়ে বেশি সম্মুখীন হই আমরা গো ভক্ষণের ক্ষেত্রে। যেহেতু বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট‌ বা অনেক প্রোগ্রামেই একসাথে গরু ও অন্য মাংসের আয়োজন থাকে, অনেকেই ভুলবশত গরু খেয়ে ফেলে। আবার চালাকি করে, মিথ্যা বলে হিন্দুদের গরুর মাংস খাইয়ে দিতে চাইবার প্রবণতাও বাংলাদেশে খুব কমন বিষয়। সংখ্যাগরিষ্ঠদের “আমার অমুক হিন্দু বন্ধু/অমুক হিন্দু কলিগ তো খায় গরুর মাংস, তুইও খা একটু সমস্যা কী” এটা বাস্তব জীবনে শোনেন নি এমন হিন্দু বাংলাদেশে খুবই দুর্লভ।
বাস্তবে এটি খুব ই অবান্তর একটি ধারণা। অগ্নির ধর্ম উত্তাপ, মানুষের ধর্ম সনাতন। ধর্ম একমাত্র জেনেবুঝে পাপ করলেই নাশ হয়। অজ্ঞাতসারে কোন মাংস ভক্ষণ করলে ধর্মের নাশ হতে পারেনা। প্রাচীনকালে এমনও দেখা গেছে মুঘল/সুলতানী শাসকরা কোন হিন্দু রাজাকে ধর্মান্তরিত করার জন্য তাকে ছলেবলে গোমাংস খাইয়ে দিত কারণ শাস্ত্রজ্ঞানহীন হিন্দুদের মধ্যে এরকম একটি অছ্যুৎ প্রথা প্রচলিত ছিল যে গোমাংস খেলেই ধর্ম শেষ!
কিন্তু শাস্ত্র এ নিয়ে কী বলে?
প্রশ্ন: আমি না জেনে অজ্ঞতাবশত পাপ করে ফেলেছি, এখন আমি কী করতে পারি?
– এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে বশিষ্ট ধর্মসূত্রে। 
ধর্মসূত্রের অন্তর্ভুক্ত বশিষ্ট সংহিতার ২৭ তম অধ্যায় অনুযায়ী,

যদি কোনো ব্যক্তি একশত বা এর অধিক পাপ করে, তবুও সে যদি বেদ স্মরণ করে; বেদের অগ্নিতে সেই সকল পাপ দূর হয়ে যায়। যেমন তীব্র অগ্নি এমনকি সবুজ গাছকেও পুড়িয়ে ফেলে, তেমনি বেদের অগ্নি তার মন থেকে সকল অপরাধবোধ দূর করে‌।
(বশিষ্ট ২৭.১-২)
অর্থাৎ শুদ্ধ চিত্তে বেদ পাঠের মাধ্যমেই আমরা সকল পাপ থেকে মুক্ত হতে পারি। আমাদের মনের অপরাধবোধ দূর হয়
কিন্তু একইসাথে সতর্ক করা হচ্ছে, বেদের এই ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে কারো উচিত নয় পাপকর্মে প্রবৃত্ত হওয়া ও আনন্দ উপভোগ। বেদপাঠ কেবল অজ্ঞতা আর অবহেলাবশত হওয়া পাপ থেকেই পরিত্রাণ করে।
(বশিষ্ট ধর্মসূত্র, ২৭.৪)
অর্থাৎ বেদপাঠ করি বলে সেই গৌরবে ইচ্ছা করে পাপ করব আর পরে ক্ষমা চেয়ে মুক্ত হব- ব্যাপারটা এমন ও না। আমাদের মনে রাখা উচিত, ঈশ্বর কখনোই কারো ইচ্ছাকৃত পাপ ক্ষমা করেন না, ঈশ্বর যদি পাপ ক্ষমা করেন, তাহলে তাঁর ন্যায় বিচারক স্বরূপ অক্ষুণ্ণ থাকে না। যার প্রতি পাপ করা হয়েছে, তার প্রতি অবিচার করা হয় ক্ষমা করে দিলে। সেজন্য বৈদিক সনাতন ধর্মে আমরা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনার সময় সর্বদা সংকল্পবিকল্পাত্মক বুদ্ধি চাই, সদ্গুণ চাই, অন্তর থেকে পাপপ্রবৃত্তি দূর হোক এমনটা চাই, আলোর পথ, জ্যোতির পথ, অমৃতের পথের সন্ধান চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *