মানুষ ভালোবেসে মরে, ভালোবাসার জন্য মরে। কিন্তু ভালোবেসে ভালোবাসার জন্য মরে ক’জন?

Uncategorized
মানুষ ভালোবেসে মরে, ভালোবাসার জন্য মরে। কিন্তু ভালোবেসে ভালোবাসার জন্য মরে ক’জন? বলতে পারো… 
মরতে বলছি না। তবে সদুত্তর জানতে চাইলে বাস্তবে দু’একজন ছাড়া পাবেও না৷ অথচ ‘ভালোবাসি’ দাবি করার বেলায় লাইন পড়ে যাবে, তবু গুনে শেষ করতে পারবে না৷ 
আজকালকার ভালোবাসা বলতে সবাই যৌনতা বোঝে; সম্পর্কের শুরু থেকেই উষ্ণতার পরশে কেবল শরীর খোঁজে! 
নারী তাও ভালো, শালীনতা বজায় রাখতে জানে। পান থেকে চুন খসলেই অবহেলার ন্যায় বিচ্ছেদের কাব্য; বেপরোয়া পুরুষ সম্পর্কের উর্ধ্বে আজ ভালোবাসার মানে বিছানা বোঝে। 
নারীর মৌনতা পুরুষের অস্ত্র। খুবলে খেয়েছে, তবু খোঁজ নেয়নি পিরিয়ডস চলছে কি না! অন্ধকার ঘরে সবার আগে দু-দলা মাংসপিণ্ডের খোঁজ; ইচ্ছা-অনিচ্ছা তুচ্ছ – 
কামাসক্তে নিজের জন্মস্থানে পুরুষ, নিজেরই নৃশংসতার প্রতিচ্ছবি আঁকে। 
ব্যর্থ বিলাপ; পুরুষ তো কেবল ভোগ করতে জানে। এমনকি স্বার্থের বাজারে কখনো স্বজনের শরীর পর্যন্ত পরের কাছে বন্ধকে নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করে ফেরে। 
প্রতি মুহূর্তে সমাজের ভ্রুকুটিতে নারী আজ সত্যিই দুর্বল। নয়তো সাধ্য কার, নারী শক্তিকে মুখ বুজে সহ্য করতে বাধ্য করবার?? 
এদিকে সাহসী পুরুষের কপালেও কখনো চিন্তার ভাঁজ কাটাকুটি খেলে। তবে পুরুষ জাতি সত্যিই সাহসী, নয়তো নির্মমতার চরম সীমায় নিজের অংশকে পর্যন্ত কেউ কখনো নারীর গর্ভ-বধে বাধ্য করে!!! 
আচ্ছা, ভালোবাসা কি শুধু বাহ্যিক রূপ-নারী-পুরুষ আর শরীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ? ভালো লাগলে ব্যবহার করব, নইলে নামের সাথে কলঙ্কের ট্যাগ লাগিয়ে দিয়ে লালসার তৃষ্ণা মেটাতে ফের নতুন কাউকে খুঁজব! 
নয় তো? 
তবে সমাজ মুখোশধারী হায়েনা-কে মনুষ্যত্বের কাঠগড়ায় দাঁড় না করিয়ে, সত্যের সম্মুখে নারীকে বেশ্যা-নষ্টা-দুঃশ্চরিত্রা আখ্যা দেয় কেন?
জবাব নেই! জানতাম! 
নিজের কাপুরুষত্বকে পুরুষ চিরকাল নারীর সম্মানের চাদরে মুড়িয়েছে। অশ্রু তো বিসর্জনের প্রতীক, কিন্তু পুরুষ তার তামাশা রটিয়ে আজীবন শ্রাবণের ধারার ন্যায় উপভোগ করে এসেছে। মৌনতা একমাত্র কারণ, যতই সরিয়ে স্পর্ধার আঁচ লাগাও, সমাজের পুরু পর্দার কাছে একসময় সিক্ত হতেই হবে।
ভালোবাসা তো ভোগের কাম্য নয়; প্রেমিকের 
অস্তিত্বে নিজেকে হারিয়ে খুঁজে ফেরার নাম 
ভালোবাসা। তীব্র গরমে ঘর্মাক্ত যৌবনের দৃশ্যে 
গল্পের প্রসবের নাম ভালোবাসা। শাড়ি খুলে চুলের মুটি ধরা নয়, সুন্দর করে শাড়ির কুচি ধরার সাথে চুলগুলো বেঁধে দেওয়ার নাম ভালোবাসা। প্রেমিকার আলতো ঠোঁটে মুহূর্তগুলো যাপন করে নেওয়ার নাম ভালোবাসা। যৌনতা নয়, পিঠে হাত বুলাতে বুলাতে প্রেমিকার উলঙ্গ দেহে কতগুলো তিল আছে, সেগুলো যাপন করে নেওয়ার নাম ভালোবাসা। কামুকতা বিসর্জ্জনে প্রেমিকের বুকে মাথা নুয়ে জাপটে ধরে সারাদিনের সমস্ত ক্লান্তি উজাড় করে প্রসন্ন চিত্তে ‘ভালোবাসি’ বলতে পারার নামই প্রকৃত ভালোবাসা। 
পুনশ্চঃ- 
নারী মানেই ভোগ্যবস্তু নয়। পুরুষ মানেই ভোগকর্তা নয়।  অথচ ভোগের আরেক নাম ভালোবাসা দাবি করতে গিয়ে আমরা অভিশাপকে সঙ্গী করে ফিরি। ভালোবাসা তো পবিত্রতার প্রতীক, যা জাগতিক সকল কিছুর উর্ধ্বে। 
© Rudro Deb 🙏

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *