সিলসিলা (নাকি ছিলছিলা?) ওরা কাওয়ালি গাইলেই কি আর না গাইলেই কি?

Uncategorized
সিলসিলা (নাকি ছিলছিলা?) ওরা কাওয়ালি গাইলেই কি আর না গাইলেই কি? আপনারা এই উৎপাতটা না করলে তো আমার মহান ফেইসবুক প্রোফাইলে এই মহান পোস্টে সিলসিলা ফিলছিলা নামের এইসব ব্যান্ড ফ্যান্ডের নামই উল্লেখ করতে হতো না। টিএসসিতে কয়েকজন ছেলেমেয়ে মিলে কাওয়ালি করতে চেয়েছে, করুতো, ওদেরকে পেটানো কি দরকার ছিল? আর ওদেরকে পেটানোর অধিকারী বা আপনাদেরকে কে দিয়েছে। এইগুলি তো লক্ষণ ভাল না। কয়েকজন হুমকি দিচ্ছে বিদেশে বসে দেশবিরোধি প্রচারণা চালালে পাসপোর্ট বাতিল করা হবে, আর এইদিকে আপনারা বলছেন টিএসসিতে কাওয়ালি গাইলেই মাইর। এইসব কিসের লক্ষন বুঝতে পারছেন তো? ইতিহাস পড়েননা? 
আমার বন্ধু আবদুল্লাহ চৌধুরী একটা গল্প বলেছিল আমাদেরকে। খলিফা হারুনুর রশিদের দরবারে একবার বাগদাদের লোকেরা এক কবিকে ধরে নিয়ে এসেছে। কি ব্যাপার? না এই কবির ফাঁসি চাই। কেন কেন? কবিকে কেন ফাঁসি দিতে হবে? দরবারে উপস্থিত সকলে বলে উঠেছে, এই ব্যাটা পচা কবিতা শুনিয়ে শুনিয়ে আমাদের কান ঝালাপালা করে ফেললো, হে আমিরুল মুমেনিন, উহাকে ফাঁসির দণ্ড দিন। এইটা কি হয়? কবিতা পছন্দ না হলে আপনি পড়বেন না। গাল পছন্দ হা হলে আপনি শুনবেন না। সিনেমা পছন্দ না হলে আপনি দেখবেন না। কিন্তু খারাপ কবিতার জন্যে কাউকে ফাঁসি দিতে পারেন? না, কেউ যদি আপনাকে জোর করে গান শুনাতে চায় সেটা আলাদা কথা। কিন্তু কন্টেন্টএর জন্যে তো শাস্তি হতে পারে না। 
একইভাবে দেশবিরোধী প্রচারণা প্রসঙ্গেও এই কথাটা বলা চলে। দেশের একজন মানুষ কি প্রচার করবে কি প্রচার কবে না সেটার জন্যে তো সাধারণভাবে শাস্তি হতে পারে না। হ্যাঁ, কেউ যদি মিথ্যা তথ্য দেয় বা ডিফামেশন করে এইরকম কোনভাবে অপরের হার্ম করে তাইলে আলাদা কথা। কিন্তু দেশবিরোধি প্রচারণা? এটার জন্যে কি শাস্তি দিবেন? কোন আইনে দিবেন? আর কিভাবে নির্ধারণ করবে কোন কথাটা দেশ বিরোধী প্রচারণা আর কোন কথাটা নয়? নিজের দেশের উদাহরণ দিলাম না, বার্মার উদাহরণ দিই। এই যে রোহিঙ্গারা বলছে যে ওদের দেশের সরকার ওদেরকে নির্যাতন করেছে, মেরেছে, পিটিয়েছে, ঘরবাড়ী জ্বালিয়েছে, বিনাবিচারে হত্যা করেছে- এইগুলি কি ওদের দেশ বিরোধী প্রচারণা? মায়ানমারের কি উচিৎ হবে ওদের পাসপোর্ট বাতিল করা? 
দেখেন, স্বাধীনতা লিবার্টি ফ্রিডম এইরকম কিছু কথা আছে। এইগুলি নিতান্ত বাত কি বাত নয়। এইসব কথা প্রয়োজনীয় কথা, সভ্যতার মাপকাঠি হচ্ছে এইসব কথা। একজন মানুষ এমন সব গান গাইতে পারে বা এমনও সব বক্তৃতা দিতে পারে বা এমন সব প্রচারণা চালাতে পারে যেগুলি আপনার আমার পছন্দ হবে না। এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহিতা ধরণের কথাও বলতে পারে কেউ কেউ। কিন্তু কেবল মাত্র কথা বলার জন্যে কি কাউকে আপনি শাস্তি দিবেন? না। তাইলে তো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি তার গণতান্ত্রিক লিবারেল সেক্যুলার বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলবে- সভ্যতার মাপকাঠিতে অনেকখানি পিছিয়ে পড়বো আমরা। একদল লোক গান করবে, সে যে গানই হোক, ওদেরকে মারধোর করবেন কেনে? 
এইগুলি ভাল লক্ষণ নয়। আপনারা যারা খানিকটা ইতিহাস পড়েছেন আপনারা নিশ্চয়ই জানেন এইসব কিসের লক্ষণ। গত শতকের তিরিশ ও চল্লিশের দশকে ইউরোপের কয়েকটা দেশে এইসব প্রবণতা দেখেছি আমরা। পরিণতি ভাল হয়নি। আমেরিকায় ও অন্য কয়েকটা দেশে কত কয়েক বছর ধরে আমরা এইসব লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। আফসোস, ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। উল্টো যারা ইতিহাস মনে করিয়ে দেয় ওদেরকে তিরস্কার করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *