স্টিভ জবসের সফলতার ১০ মন্ত্র ও ১০ বাণী

Blog অনুপ্রেরণা উক্তি

স্টিভ জবসের সফলতার ১০ মন্ত্র

স্টিভ জবস এ্যাপল কর্পোরেশন-এর মালিক এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনীদের একজন। তিনি মনে করেন, কোনো পেশায় সাফল্য এমনি এমনি এসে ধরা দেয় না। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য বা সফল হওয়ার জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে পরিশ্রম করে যেতে হয়। তবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও পরিকল্পনা ছাড়া বেশি দূর যাওয়াটা কঠিন। স্টিভ জবসের সফল হওয়ার মন্ত্র বা ১০টি পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো:

অগ্রসর হোন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে: শেখার মানসিকতা থাকতে হবে সবসময়। নিজেকে আজীবন ছাত্র ভাবতে শিখতে হবে। জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকে যা কিছু শিখবেন, তার সবই কোনো না কোনোভাবে আপনার জীবনে কাজে লেগে যাবে। অর্জিত অভিজ্ঞতাগুলো চারপাশের পৃথিবী সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত ও সমৃদ্ধ করবে। অন্যদের কাছে নিজেকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হলে অভিজ্ঞতার জুড়ি মেলা ভার। তাই নিজের পেশা জীবনকে মনে করতে হবে ধারাবাহিক অভিজ্ঞতার সমষ্টি।

অপছন্দের চাকরি করবেন না: আপনার যে কাজ পছন্দ নয় সে কাজ আপনি করবেন না। ‘পছন্দের চাকরিটা পরেও খুঁজতে পারব, আপাতত একটা কিছু শুরু করি’ এমন ভাবনার ফলে সাময়িক কিছু রোজগার হলেও পরে অনেক মাশুল গুনতে হয়। কারণ, যে কাজের প্রতি আপনার আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে, সেই পেশায় আপনি সর্বোচ্চ সাফল্য আশা করতে পারেন না। আর কেবল টাকা আয়ের জন্য কাজ করে, এমন কর্মীরা সৃষ্টিশীল কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে কাঙ্ক্ষিত নয়। মনে রাখবেন সাময়িক প্রয়োজনে হলেও অপছন্দের চাকরিতে না যাওয়াই ভালো।

দ্রুত নিজেকে প্রমাণ করুন: কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর যত দ্রুত নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারবেন, তত আপনার সম্ভাবনার দ্বার উন্মেচিত হবে। ধীরে-সুস্থে এগোনো যাবে, এমন ভাবলে ভুল করবেন। বরং প্রতিষ্ঠানের কাছে নিজের গুরুত্ব খুব দ্রুত তুলে ধরুন। এতে আপনার বেতনের অঙ্ক ও পদমর্যাদার উন্নতি হবে এবং আরও বড় পরিসরের দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হবে।
রিস্ক নিয়ে কাজ করুন: রিস্ক নেওয়াটা সব সময় ঝুঁকিপূর্ণ না-ও হতে পারে। প্রতিদিন যদি একই কাজ একই ভাবে করে যেতে থাকি, আমরা এগোতে পারব না। ঝুঁকি নেওয়ার মাধ্যমে আপনি নিজেকে একটা অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবেন, যেখানে সাফল্য ও ব্যর্থতা-দুটোই থাকতে পারে। উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের ঝুঁকিই হতে পারে আপনার বড় সাফল্যের সিঁড়ি

মানুষের সান্নিধ্যে আরও বেশি সময় দিন: মোবাইলে মুখ গুঁজে না থেকে বেশি সময় কাটান অন্যদের সঙ্গে কথাবার্তা ও আলাপচারিতায়। সবকিছু অনলাইনে হয় না, অনলাইনের সময় যত কম দিবেন তত আপনার জন্য মঙ্গল। স্মার্টফোন ও ট্যাবের মতো যন্ত্রগুলো আপনাকে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে ঠিকই, কিন্তু মুখোমুখি আলোচনার সময়-সুযোগ কেড়ে নেয়। মনে রাখতে হবে, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আপনাকে খুঁজছে, প্রযুক্তিকে নয়। এ যুগে প্রযুক্তিতে দক্ষ লোকজনের চেয়ে মুখোমুখি যোগাযোগে দক্ষ মানুষের চাহিদা বরং বেশি।

মূল্যায়ন করুন নিজের কাজের: ধরুণ আপনাকে কোনো দোকানের পণ্য বিক্রির জন্য আপনার নিয়োগদাতা নিয়োগ দিতে চান। আপনি যদি সেই দোকানের পণ্য বিক্রির কাজ করতে না জানেন তবে আপনাকে কেন নিয়োগ দেওয়া হবে? চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো আপনাকে নিয়োগ দেওয়ার আগে ভেবে দেখবে, আপনার কাছ থেকে কী কী পাওয়া যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসানির্ভর। আপনি তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সার্বিক আয় কতটা বাড়াতে পারবেন এবং ব্যয় কতটা কমাতে পারবেন-সেগুলো খতিয়ে দেখার জন্য আপনার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা হবে। কাজেই নিজেই নিজেকে সেভাবে যাচাই করে দেখুন।

আগামীর প্রয়োজনে আত্মত্যাগ: আগামী দিনের ভালোর জন্য আজকের সাময়িক সুখকে কম্প্রোমাইজ করা বুদ্ধিমানের কাজ। ভবিষ্যতে নিজেকে ভালো অবস্থানে দেখতে চাইলে আপনাকে এখন কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। পেশা জীবনের শুরুতে যত পরিশ্রম করবেন, পরবর্তী জীবনে তার সুফল তত বেশি পাবেন। আর তখন সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর পর ধন্যবাদটা আপনি নিজেকেই দিতে পারবেন, অন্য কাউকে নয়।
ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট তৈরি করুন: নিজের যাবতীয় অর্জন ও অভিজ্ঞতার তথ্য এক জায়গায় রাখতে হবে। নিজের পূর্ণ নামের শেষে ডট কম যুক্ত করে ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। এতে করে আপনি নিজের কাজকর্ম সম্পর্কে খুব সহজে অন্যদের জানাতে পারবেন। এভাবে নতুন নতুন কাজ ও উদ্যোগের সুযোগ অবারিত হয়। নিজের অর্জন ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওয়েবসাইটটি হালনাগাদ করতে হবে। আবার ওয়ার্ডপ্রেস, ব্লগস্পটের মত বিভিন্ন ফ্রি ওয়েবসাইটেও এগুলো করতে পারেন। ফেসবুক, লিংকডইনসহ সামাজিক যোগাযোগের অনলাইন মাধ্যমগুলোতেও নিজের প্রোফাইল হালনাগাদ রাখা উচিত।

ভ্রমণ করুন এবং বই পড়ুন: অন্যদের সংস্কৃতি, ভাষা ও কাজের ধরন সম্পর্কে জানতে হলে ভ্রমণ করা এবং বই পড়ার বিকল্প নেই। যত বেশি ভ্রমণ করবেন এবং বই পড়বেন, বিশ্ব সম্পর্কে তত বেশি বাস্তব অভিজ্ঞতার অধিকারী হবেন। বর্তমান যুগে যার কাছে সবচেয়ে বেশি তথ্য আছে সেই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং সফল মানুষ। সুতারাং নিজেকে আপটুডেট রাখুন। নিজের জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে প্রাসঙ্গিক বই পড়ুন আর বেশি বেশি ঘুরে বেড়ান।

সঠিক এবং যোগ্য মেন্টর বাছাই করুন: পেশা জীবনে একজন যোগ্য ও দক্ষ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তির অধীনে কাজ করা ভালো। সঠিক ব্যক্তিটিকে বাছাই করুন, যিনি আপনাকে সমর্থন, উৎসাহ ও সময় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। তাঁকে অবশ্যই আপনার পেশাসংশ্লিষ্ট হতে হবে। আপনি তাঁর অবস্থানে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখবেন এবং তাঁর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা আপনার কাজে লাগবে। নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনাগুলো তাঁর সঙ্গে বিনিময় করতে হবে। তবে সব ক্ষেত্রে যে আপনাদের মতের মিল হবে, তা নয়। সঠিক এবং যোগ্য মেন্টর বাছাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ।


আপনার জীবন বদলে দেবেস্টিভ জবসের এই ১০টি উক্তি

এ্যাপল কর্পোরেশন-এর নাম শুনলেই যার নাম মনের আয়নায় ভেসে ওঠে তিনি স্টিভ জবস। একজন সুদূরপ্রসারী চিন্তাশক্তি সম্পন্ন মানুষ আধুনিক সভ্যতার আইকন স্টিভ জবস। এক কিংবদন্তীর নাম স্টিভ জবস। অ্যাপল ইনকর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা। ম্যাক, আইফোন, আইপ্যাডের মত যুগান্তকারী পণ্যের জন্মদাতা স্টিভ জবস। স্টিভ জবস-এর যেকোনো বক্তৃতাই বাণীর মত শোনায়। মানুষের অনুপ্রেরণার অন্যতম আধার স্টিভ জবস। হাজার হাজার মানুষ তার বাণী থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জীবনে সফলতার দেখা পেয়েছে। স্টিভ জবসের সেরা জীবনকে বদলে দেওয়া ১০ উক্তি নিয়ে থাকছে আজকের এই আয়োজন।

১. “মানুষের সঙ্গে সহজ ব্যবহার করা আমার কাজ নয়। আমার কাজ হচ্ছে, মানুষকে দিয়ে আরও ভাল কিছু করানো।”

২. “মানুষ মনে করে ফোকাস অর্থ হচ্ছে তাকে যে বিষয়ে মনোনিবেশ করতে বলা হয়েছে, সে বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ বলা। কিন্তু এর অর্থ উল্টো। এর অর্থ হচ্ছে অন্যান্য হাজারো ভাল আইডিয়াকে বিদায় জানানো। তবে এ কাজটি আপনাকে সতর্কভাবে করতে হবে। আমরা যে কাজগুলো করেছি, সেগুলোর জন্য আমি যতখানি গর্বিত, যে কাজগুলো করিনি সেগুলোর জন্যও আমি ঠিক ততোখানিই গর্বিত। উদ্ভাবন মানে হচ্ছে হাজারটা বিষয়কে ‘না’ বলতে পারা।”

৩. “আপনি যখন উদ্ভাবন করবেন, তখন আপনার কিছু ভুলও হবে এটাই স্বাভাবিক। সবচেয়ে ভাল হয় যদি সেগুলো দ্রুত স্বীকার করে নেন, এবং সাথে সাথে আপনার অন্য উদ্ভাবনগুলো আরো উন্নত করার কাজে মনোনিবেশ করেন”

৪. “ব্যবসায় চমৎকার জিনিসগুলো কখনোই একজন একক ব্যক্তি করেন না। মানুষজন দলবদ্ধভাবে সেগুলো করেন। সুতারাং দলবদ্ধভাবে কাজ করার মানসিকতা রাখুন”

৫. “কখনো কখনো জীবন আপনার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করবে। তখন বিশ্বাস হারাবেন না। এগিয়ে যান, সফলতা সম্মুখে।”

৬. “জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে চমৎকার কোনো কাজ করা। আর কোনো কাজ তখনই চমৎকার হবে যখন আপনি আপনার কাজকে ভালোবাসবেন। যদি এখনো আপনার ভালোবাসার কাজ খুঁজে না পান তাহলে খুঁজতে থাকুন। অন্য কোথাও স্থায়ী হয়ে যাবেন না।”

৭. “আপনাকে কিছু জিনিসের ওপর বিশ্বাস রাখতেই হবে; আপনার মধ্যকার শক্তি, ভবিষ্যৎ, জীবন বাস্তবতা, কর্মফল, এসব…. এটা আপনাকে স্বাধীনভাবে কাজ করার আত্নবিশ্বাস যোগাবে।”

৮. “নিজের মন আর অনুভূতির কথা শোনার সাহস রাখবেন। ওরা ঠিকই জানে আপনি আসলে কী হতে চান। বাকি সব কিছুই গৌণ।”

৯. “মৃত্যুই আমাদের সবার গন্তব্য। কেউই কখনো এটা থেকে পালাতে পারেনি। এবং সেটাই হওয়া উচিৎ, কারণ মৃত্যুই সম্ভবত জীবনের অন্যতম বড় আবিষ্কার। এটা জীবনে পরিবর্তনের এজেন্ট। এটা পুরনোকে ঝেড়ে নতুনের জন্য জায়গা করে দেয়।”

১০. ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো। বোকা এবং ক্ষুধার্ত থাকলে মানুষ দিনদিন আরও নিজেকে উন্নতির শিখরে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র:

উইকিপিডিয়া

টেনমিনিট স্কুল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *